Showing posts with label আল্লামা ইকবাল. Show all posts
Showing posts with label আল্লামা ইকবাল. Show all posts

Saturday, March 16, 2019

আল্লামা ইকবালের খুদী সংক্রান্ত কবিতার ২টি লাইনের দুইটি অসাধারণ অনুবাদ

          আল্লামা ইকবালের খুদী সংক্রান্ত কবিতার ২টি বিখ্যাত লাইন হলো: ‘খুুদি কু কর বুলন্দ এতনা কে হর তাকদির সে পেহলে / খোদা বন্দে সে খোদ পূছে বাতা তেরী রেযা কিয়া হ্যায়?’ অর্থাৎ: ``খুদিকে এমন উঁচুতায় নিয়ে যাও যাতে  (তোমার ভাগ্য লিখবার আগে) আল্লাহ স্বয়ং জিজ্ঞেস করেন: বান্দা তোমার সন্তুষ্টি কীসে বল, আমি সেটাই লিখে দেই।" ‘খুদি’ কী? সত্ত্বা তথা আত্মার জাগরণ, সঠিক আত্মোপলব্ধির বলীয়ান বিকাশ। এ খুদিই ইকবালের কাব্যদর্শনের মূল সুর। এ খুদির মাধ্যমে তিনি বিপর্যস্ত মানবতার সংকট-মুক্তির আকুতি জানিয়েছেন। খুদিকাব্যের প্রতিটি ছত্রে তিনি মানবদরদের দূর্গ-কলিজাকে ফালি ফালি করে কেটে পরিবেশন করেছেন আত্মভোলা জাতির দস্তরখানে। আত্মার জাগরণকে তিনি এমন উঁচু স্তরে নিয়ে যাবার আহ্বান জানিয়েছেন, যে স্তরে উন্নীত হলে বান্দার প্রতি আল্লাহপাক সম্পূর্ণই সন্তুষ্ট হয়ে যান। আর সেই সন্তুষ্টির কারণে আল্লাহ বান্দার তাকদির (ভাগ্যলিপি) বান্দার সম্পূর্ণ অনুকূলেই লিখে দেন। খুদী সংক্রান্ত কবিতার উক্ত ২টি বিখ্যাত লাইনের কাব্য অনুবাদ নীচে দেয়া হলো:

এই দুইটি ভিডিও দেখুন প্লীজ:

বিশেষ নোট: ২য় কাব্য অনুবাদটির কবির নাম আমার জানা নাই। কেউ জানলে এই ই-মেইলে জানাবের প্লীজ: sohelict@gmail.com

Wednesday, December 12, 2018

আল্লামা ইকবাল : বিশ্বকবিতার বরপুত্র


আম্মার সাদিক : পাঞ্জাবের সিয়ালকোট শহরে ১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দের ৯ নভেম্বর ইকবালের জন্ম। তাঁর পূর্বপুরুষেরা ছিলেন কাশ্মীরী ব্রাহ্মণ। প্রায় তিনশ বছর আগে তাঁরা ইসলাম গ্রহণ করেন। সিয়ালকোটে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপন শেষে ইকবাল ১৮৯৫ সালে লাহােরে যান।
শৈশব থেকেই ইকবাল কবিতা লেখা শুরু করেন। তার শিক্ষক শামসুল উলামা মীর হাসান তাঁর প্রতিভার পরিচয় পেয়ে তাকে উৎসাহিত করতে থাকেন। সিয়ালকোট ত্যাগ করার সময় ইকবাল যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম পরীক্ষায় মাত্র উত্তীর্ণ হয়েছিলেন, তবু প্রাচ্যের জ্ঞান-বিজ্ঞানে ততক্ষণে তিনি গভীর ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছিলেন।
লাহােরে তিনি বিভিন্ন কবি-সম্মেলনে যােগ দিয়ে কবিতা পাঠ করতে থাকেন। ক্রমে তাঁর কবিখ্যাতি দিগ্বিদিক ছড়াতে থাকে। লাহােরের আঞ্জুমানে হিমায়েতে ইসলামের বার্ষিক সভায় ১৮৯৯ এবং ১৯০০ সালে পঠিত তার ‘অনাথের বিলাপ’ ও ‘ঈদের চাঁদের প্রতি ইয়াতীমের সম্বােধন’ কবিতাদ্বয় (তাঁর প্রকাশিত কাব্য-সংগ্রহে এগুলির স্থান দেয়া হয়নি) শ্রোতাদের মনােযােগ আকর্ষণ করে।
ইকবাল মৌলিক রচনার পাশাপাশি অনেক বিদেশী কবিতার সরল কাব্যানুবাদও করেছেন। এ শ্রেণীর কিছুসংখ্যক কবিতা তার প্রকাশিত বইগুলোতে দেখা যায়। তিনি কিছু কিছু রাজনৈতিক কবিতাও লিখেছেন, যদিও এদিকে তার ঝোঁক বেশীদিন স্থায়ী হয়নি।
লাহােরে ইকবাল বিখ্যাত মনীষী টমাস আরনল্ডের সংস্পর্শে আসেন এবং পাশ্চাত্য কৃষ্টির শ্রেষ্ঠ ভাবধারার সঙ্গে পরিচয় লাভের সুযােগ পান।
বিশেষত আধুনিক সমালােচনা ও গবেষণা-পদ্ধতির পাঠ তিনি আরনল্ডের কাছেই পান। এ সময় ইকবালের প্রথম বই প্রকাশিত হয়, যা উর্দু ভাষায় ধনবিজ্ঞানের সর্বপ্রথম বইও বটে । তার এ সময়কার কবিতা বেশ উচ্চমার্গীয় হলেও এতে পরবর্তী রচনায় পরিলক্ষিত দৃষ্টির প্রসারতা, উদারতা, গভীরতা ও চিন্তার পরিপক্বতা দেখা যায় না।
আরনল্ডের পরামর্শে ইকবাল উচ্চতর শিক্ষার জন্য ১৯০৫ সালে ইউরােপ যান। তিন বছর তিনি সেখানে অবস্থান করেন। তাঁর চিন্তাধারা ও ব্যক্তিত্বের বিকাশে প্রবাসের এই তিন বছর গভীর প্রভাব বিস্তার করেছে, কর্মের চেয়ে প্রস্তুতিতেই এর অধিকাংশ ব্যয় হয়েছে।
কেমব্রিজ, লণ্ডন ও বার্লিনের বিশাল গ্রন্থাগারগুলো ছিল সহজলভ্য। গভীর অধ্যয়ন ও ইউরােপীয় মনীষীদের সঙ্গে পাণ্ডিত্যপূর্ণ আলাপ-আলােচনায় ইকবাল তার প্রবাসকালের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করেন।
তাঁর চিন্তাধারা ও দৃষ্টিভঙ্গিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় এ সময়। সঙ্কীর্ণ জাতীয়তাবাদই ইউরােপীয় সঙ্কটের মূল কারণ; তার উদার মন এমন জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘােষণা করে।
অপরদিকে অবিরাম সংগ্রাম ও সক্রিয় গতিশীল জীবনকেই তিনি স্বকীয় আদর্শরূপে গ্রহণ করেন। তার অসংখ্য কবিতায় এর পরিচয় পাওয়া যায়। আবার এসময়েই তিনি উর্দুর পরিবর্তে ফারসি ভাষায় কবিতা রচনা শুরু করেন।
কবি ইকবালের ইউরােপ প্রবাস ছিল গভীর প্রস্তুতির। তিনি কেমব্রিজ থেকে ডিগ্রী ও মিউনিখ থেকে ডক্টরেট লাভ করেন। ছয় মাস তিনি লণ্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবির অধ্যাপক ছিলেন। তখন লণ্ডনে অনেকগুলি মূল্যবান বক্তৃতা দিয়েছিলেন।
ইকবাল ১৯০৮ সালে লাহােরে ফিরে আসেন। কিছুদিনের জন্য আংশিক সময় তিনি লাহাের সরকারী কলেজে দর্শন ও ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপনায় ব্যয় করেন। এবং সঙ্গে সঙ্গে আইন ব্যবসাও শুরু করেন। পরে অধ্যাপনা ছেড়ে আইন ব্যবসায় পূর্ণ মনােযােগ দেন।
১৯১৫ সালে ‘আসরার-ই-খুদী’ প্রকাশ ইকবালের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। গতানুগতিক নিষ্ক্রিয় মরমীবাদের ভক্তদের মনে এ সংকলন প্রবল ধাক্কা দেয়। প্রথমদিকে তাকে প্রবল বিরুদ্ধ সমালােচনা সহ্য করতে হয়েছিল।
সুখের বিষয়, ইকবালের জীবনকালেই তার এ বই বিশ্বব্যাপী সমাদর লাভে সমর্থ হয়েছিল। ‘আসরার-ই-খুদী’র পরিপূরক রুমুয-ই বেখুদি’ প্রকাশিত হয় ১৯১৮ সনে। ফলে কবি ও দার্শনিকরূপে ইকবালের খ্যাতি বিশ্বের সুধী সমাজে স্থায়ীভাবে প্রসার লাভ করে।
ইকবালের কাব্যকে দু’ভাগে ভাগ করা যায় : এক. শুরু থেকে ‘রুমুয-ই-বেখুদি’ পর্যন্ত রচিত কবিতা। দুই. ‘রুমুয-ই-বেখুদি’ পরবর্তী কবিতা।
বিলাতে যাবার আগে ইকবাল উর্দু ভাষায় যেসব কবিতা লিখেছিলেন তাতে যথেষ্ট সৌন্দর্য ছিল বটে, কিন্তু তাঁর প্রতিভা তখনাে স্থৈর্য ও পূর্ণতা পায়নি। স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের পরে উর্দুতে ‘শিকওয়া, জওয়াব-ই-শিকওয়া’, ‘শামা আওর শাইর’ ইত্যাদি কয়েকটি অপূর্ব রকমের বই প্রকাশ করেন।
কিন্তু মানব সমাজের জন্য যে অভিনব বাণী তিনি প্রদান করবেন, তার আভাস এতে নেই। সে বাণী প্রথম মূর্ত হয়ে ওঠে ফারসী ভাষায় লিখিত ‘আসরার’ ও ‘রমূ” কাব্যদ্বয়ে, পূর্ণ বিকশিত প্রতিভার প্রথম অবদান। বিশ্ব সাহিত্যে এর সমকক্ষ কাব্য বিরল।
১৯২১ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর ‘খিজর-ই-রাহ’ এবং পরের বছর ‘তুল-ই- ইসলাম’। দুটি কবিতাই উর্দু ভাষায় রচিত এবং ‘বাঙ্গ-ই-দারা’ নামক কবিতাটি এ সংকলনে স্থান পেয়েছে।
এরপরে প্রকাশিত হয় ফারসী ভাষায় লিখিত ‘পয়ামই-মাশরিক’ বা প্রাচ্যের বাণী। এর কবিতাগুলি বিখ্যাত জার্মান কবি গ্যেটের কয়েকটি কবিতার প্রত্যুত্তরে লিখিত।
দু’বৎসর পর প্রকাশিত হয় ‘যবুর-ই- আজম’ (ফারসী) এবং তার পরে ‘জাবিদনামা’ (ফারসী)।কেউ কেউ ‘জাবিদনামা’-কে ইকবালের শ্রেষ্ঠ রচনা বলে অভিহিত করেছেন।
১৯৩৪ সালে তাঁর ফারসি কবিতা ‘মুসাফির’ এবং ১৯৩৬ সালে অন্য একটি ফারসি কবিতা ‘পাসূচে বায়াদ কদ’ (কিংকর্তব্য) প্রকাশিত হয়। এ সময় আবার তিনি উর্দু ভাষাতেও কবিতা লেখা শুরু করেন।
উর্দু কবিতা সংগ্রহ ‘বাল-ই-জিবরাঈল’ ১৯৩৫ সালে এবং ‘যুব-ই-কলীম’ ১৯৩৬ সালে প্রকাশিত হয়।
ফারসি ও উর্দু ভাষায় তাঁর শেষ কবিতা সংকলন ‘আরমুগান-ই-হিজায’ (হিজাযের অভিনব উপহার) প্রকাশিত হয় ইকবালের ইনতিকালের পরে।
১৯২২ খ্রিস্টাব্দে ইকবালকে ‘নাইট’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
তিনি মাদ্রাজ, হায়দরাবাদ ও আলীগড়ে কয়েকটি সুচিন্তিত বক্তৃতা প্রদান করেন। সেগুলি The Reconstruction of Religious Thought in Islam নামে পরে পুস্তকাকারে প্রকাশিত হয়।
১৯৩১-৩২ সালে তিনি আবার ইউরােপ ভ্রমণে গেলে বিখ্যাত ফরাসী দার্শনিক হেনরী বার্গস-র সঙ্গে প্যারিসে সাক্ষাত করেন। কথা প্রসংগে ইকবাল ‘কালকে ভৎসনা করাে না’ হাদীসের উল্লেখ করেন, শােনামাত্র পক্ষাঘাতগ্রস্ত হুইল চেয়ারে বসা দার্শনিক লাফিয়ে ওঠেন।
ফিরবার পথে ইকবাল স্পেন ভ্রমণ করেন এবং মুসলিম যুগের প্রাচীন সৌধসমূহ দর্শন করেন। একটি ইসলামি সম্মেলনে যােগদান উপলক্ষে তিনি জেরুজালেমেও গমন করেছিলেন।
১৯৩৩ খৃস্টাব্দে আফগানিস্তানের শিক্ষা সংস্কার বিশেষ করে কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনা সম্বন্ধে পরামর্শ দেবার জন্য আফগান সরকার ইকবালকে কাবুলে দাওয়াত করে নিয়ে যান। তার প্রদত্ত অধিকাংশ সুপারিশই আফগান সরকার কার্যে পরিণত করেছিলেন।
ইকবাল ১৯০৮ থেকে ১৯৩৪ পর্যন্ত আইন ব্যবসা করেন। পরে অসুস্থতার জন্য তাকে এ ব্যবসা ছাড়তে হয়। তার আইনের জ্ঞান ছিল গভীর। কিন্তু অত্যধিক ধনােপার্জন কখনই তার উদ্দেশ্য ছিল না।জীবন ধারণের জন্য যতটা অর্থের দরকার, তার যােগাড় হলেই তিনি আর মােকদ্দমা নিতেন না।
আল্লমা ইকবাল ১৯২৭ সালে পাঞ্জাব আইন সভার সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৩০ সালে তিনি সাইমন কমিশনের সমক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করেন। সে বছরের মুসলিম লীগের বার্ষিক সভার তিনি সভাপতিও নির্বাচিত হন। তাঁর সুচিন্তিত অভিভাষণে মুসলমানদের স্বতন্ত্র আবাসভূমির আবশ্যকতা সম্বন্ধে আভাস ছিল।
১৯৩৭ সনের ২১ জুন কায়েদ-ই-আযমকে লিখিত এক পত্রে তখনকার সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাহাঙ্গামার কথা উল্লেখ করে ইকবাল লেখেন, এ অবস্থায় এটা স্পষ্টই দেখা যাচ্ছে যে, ভারতে শান্তি রক্ষার একমাত্র উপায় হচ্ছে বংশগত, ধর্মীয় ও ভাষাগত সংযােগের ভিত্তিতে দেশকে পুনর্বন্টন করা’।
ভারতীয় সমস্যার বাস্তব সমাধান-রূপে দেশ বিভাগের পরিকল্পনা তিনিই প্রথম পেশ করেন।
১৯৩১ এবং ১৯৩২ সালে তিনি বিলাতে গােল টেবিল বৈঠকে যােগদান করেন। ১৯৩২ সালে তিনি মুসলিম সম্মেলনের বার্ষিক অধিবেশনের সভাপতির অভিভাষণে সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে সুচিন্তিত মতবাদ প্রকাশ করেন।
১৯৩৫ সালে রােডস (Rhodes) বক্তা হিসেবে তাকে অক্সফোর্ডে আমন্ত্রণ করা হয়। কিন্তু অসুস্থতার দরুন তাকে এ আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করতে হয়। ১৯৩৭ সালে তার চোখে ছানি পড়ে। যদিও মাঝে মধ্যে তিনি কিছুটা সুস্থতা অনুভব করেন, তবুও তার শেষ দিনগুলি দৈহিক অসুস্থতার মধ্যেই অতিবাহিত হয়।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, তাঁর সৃজনী কর্মতৎপরতা এ সময় ছিল সবচেয়ে বেশি ফলপ্রসূ। আমৃত্যু তার শেষ কবিতাটি বলে বলে লিখিয়ে নেন। যারা তার সেবা-শুশ্রুষা করতেন তাদের মত, শারীরিক শক্তি হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মনীষা অধিকতর শক্তিশালী ও প্রখর হতে থাকে ।
১৯৩৮ সালের ২৫ মার্চ তাঁর অবস্থার অবনতি হয়। সুচিকিৎসা ও সেবাশুশ্রুষা সত্ত্বেও তিনি ২১ এপ্রিল প্রত্যুষে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর আধঘন্টা আগে তিনি নিচের শ্লোকটি আবৃত্তি করেন :
نمیمے از حجاز آید که ناید + ر دانای راز آید که ناید

سرود رفته ما أید که ناید + سر أمد روزگار ابن فقیر
বিগত দিনের সুর-মূৰ্ছনা ফিরবে অথবা ফিরবে না

হিজাযের মধুমন্দ বাতাস বইবে অথবা বইবে না
দীন ফকিরের জীবনের দিন ফুরালে হায় আজ
অন্য মনীষী সুধীরা ফের  আসবে অথবা আসবে না।

অন্তিম সময়ে আল্লাহ’ শব্দ উচ্চারণ করে তিনি ধীরে ধীরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর ঠোঁটে একটি ক্ষীণ হাসির রেখা খেলছিল এবং স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিল তারই একটি পংক্তি:

বীর মুমিনের নিশান তােমায় বলছি এবার,
মৃত্যু এলে হাস্য খেলে ঠোঁটেতে তার

লাহােরের ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের প্রাঙ্গণে তার সমাধি রচিত হয়।

Monday, May 14, 2012

ইকবালের কবিতা : মুসা আল হাফিজ


আল্লামা ইকবাল উপমহাদেশের মুক্তিকামী মানুষের আত্মজাগরণের পথিকৃৎ এক মহান কবি দার্শনিক ও শিল্পী প্রতিভা। তার সৃষ্টি, শিক্ষা, দৃষ্টি ও আদর্শের মধ্যে আমাদের জাতিসত্তার আত্মপরিচয়ের স্বভাব ও স্বরূপ অসামান্য উজ্জ্বলতায় উৎকীর্ণ। ফলে ইকবাল সত্তায় কেবল এক কবির বসবাস নয় বরং রয়েছে এক মহান আদর্শের উত্তরাধিকার। তার আবির্ভাব ছিলো উপমহাদেশের ঘোরতর দুঃসময়ে ত্রাণকর্তার মতো। তার স্বতন্ত্র, দুঃসাহসী উচ্চারণ চুরমার করতে চেয়েছে পরাধীন মানুষের হীনম্মন্যতার দেয়াল। তাদের চেতনার ঠান্ডা আকাশ মুখর করে তুলেছে তার চিন্তার জ্যোতিষ্কের কোলাহল। সহিষ্ণু মুসলিম চেতনাসীমায় ইকবালের কবিতা ছিলো স্বপ্নের পুনরুত্থানের মতো। তার চিন্তাধারা ছিলো স্বর্গের সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসা নবজন্মের ইশতেহার। ক্ষুদ্রতার, সংকীর্ণতার, সংস্কারের সকল প্রাচীরের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলো তার কবিতা। ফলে সেই কবিতার জগত ছিলো গতির গমক, চিন্তার চমক ও দ্রোহী পদক্ষেপে প্রকম্পিত।
ইকবালের কবিতায় কান পাতলেই মানবাত্মার কুচকাওয়াজের শব্দ শুনা যায়। শুনা যায় বসন্তের হাসির মতো ছলকে উঠা শিল্পের স্রোতের স্বনন রব। চোখ মেললেই দেখা যায় উদ্দাম মৃগহরিণ বাতাসের অরণ্যে বিচরণ করছে, মহামানবিকতার চকচকে অঙ্গীকার সূর্যের আগুনে পতাকার মতো লাগছে, তার পতপত আছাড়ে গুড়ো রোদের মতো ছিটকে পড়ছে ইতিহাস। ইকবালের দর্শন নিয়ে কথার উপর কথামালা হয়েছে প্রচুর। তার জীবনবোধ, আত্মোপলব্ধি, চিন্তা ও পয়গামের বিষয়টি এখন আর অগম্য নয়। ইকবাল কাব্যের অনুবাদের মাধ্যমে বাংলাভাষী পাঠক পরিচিত হয়েছেন তার ভাবনাবলয়ের সাথে। কিন্তু অনুবাদ থেকে যে জিনিসটি তারা পাননি, সেটা হলো ইকবাল-কাব্যের ঐন্দ্রজালিক শিল্প ও সৌন্দর্য। কারণ বাংলা ভাষায় যারা ইকবাল-কাব্যের অনুবাদ করেছেন, তাদের অনেকেই সৃজনক্ষমতার অভাবে কিংবা আক্ষরিকভাবে মূলানুগ হবার মূঢ় বাসনায় উদ্দীপিত হয়ে ইকবালের কবিতার বিপর্যয় ডেকে এনেছেন। অমীয় চক্রবর্তি, ফররুখ আহমদ, সৈয়দ আলী আহসান প্রমুখের কয়েকটি অনুবাদ ছাড়া অন্যান্য অনুবাদে দার্শনিক ইকবালকে পাওয়া যায়, কিন্তু কবি ইকবালের দেখা মিলে না। অথচ দার্শনিক ইকবালের চেয়ে কবি ইকবালের মহিলা কোনো অংশেই কম নয়। কাব্য সৌন্দর্যে তিনি বিশ্বসাহিত্য বিস্ময় সৃষ্টি করেছেন। তার সেই সৌন্দর্যের স্বরূপ কি? বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি অমীয় চক্রবর্তীর ভাষায়- ‘তাহার কবিতায় শিল্পী ও স্রষ্টার সম্মেলন ঘটিয়াছে। ফারসী ও উর্দু উভয় ভাষারই চোস্ত ও সুমার্জিত কবিতায় ইকবাল মিনারেট সমূহের সুদূরবর্তী ইশারা ও আরবীয় মরু বালুকার চাকচিক্যময় স্বপ্ন আমাদের চোখে জাগাইয়াছেন।
জীবনের বাস্তবতার পটভূমিকায় নীলিম নিঃসীমতা যেন এখানে গলিয়া পড়িতেছে। তাহার রহস্যবাদ জীবনের সম্মুখীন হইয়াছে, তবু ইহা যেন রহস্যের অতলতাকে স্পর্শের জন্য ব্যাকুল। তাহার ভাষায়ও প্রাঞ্জল শব্দাবলী যেন অগম্য অতলতাকে প্রকাশিত করিয়া দিতেছে। সুদক্ষ জহুরী যেভাবে স্বর্ণ ও মূল্যবান প্রস্তরাদি চয়ন করিয়া থাকে ইকবালও তেমনই সতর্কতাসহকারে শব্দ চয়ন করিতেন। তবুও তাহার শৈল্পিক নৈপুণ্যতা ও ভারসাম্য রক্ষার অন্তরালে স্রষ্টার বাস্তবতাবোধ প্রভমান। (ইকবাল অমীয় চক্রবর্তী, মুহম্মদ হাবীবুল্লাহ বাহার সম্পাদিত ‘কবি ইকবাল' বুলবুল হার্ডস, কলকাতা) তিনি আরো লিখেন- ‘কবি ইকবালের কাব্য কাননে বিচরণ করলে সৌরভিকুঞ্জ দেখতে পাব, খররৌদ্র ধূলিতে শ্যামল মেলে আছে, অগণ্য মনোহর বীথি আহবান করে নিয়ে যায় গভীর ভাবনার নির্দেশে। বাক্যের ভঙ্গির রসের উচ্ছল মাধুর্য এবং দিগন্ত দৃষ্টিময় ব্যঞ্জনা তার বহু কবিতায় উপকর্ষে যে ভাষা পেয়েছে, তা উর্দু বা পারসিক ধ্বনিকে অতিক্রম করে সর্বমানবের চিত্তচারী (সাম্প্রতিক; পৃষ্ঠা-১২৯)
ইকবালের কাব্য সম্পর্কে প্রখ্যাত উর্দু কবি ফয়েজ আহমদ ফয়েজ বলেছেন- ‘ইকবালের বাণীর প্রাণবন্ত ও শক্তির উৎস হচ্ছে তার কাব্য সৌন্দর্য। ইকবালের মতো আর কোনো কবি উর্দু কবিতায় ব্যঞ্জন ও স্বরবর্ণের এতখানি ধ্বনিবৈচিত্র সৃষ্টি করতে পারেননি। এ পদ্ধতির তিনিই উদগাতা। উর্দুকাব্যে তিনি নতুন ছন্দ প্রবর্তন করেন, প্রথম সার্থকভাবে নামবাচক বিশেষ্য ব্যবহার করেন এবং অসংখ্য নতুন শব্দ আমদানি করেন। ইকবালের অন্বেষা হলো বিশ্বজগৎ ও মানুষ, বিশ্বজগতের মুখোমুখি মানুষ। তার কবিতার শেষ কথা হলো : মানুষের কথা, মানুষের বিশ্বের কথা, মানুষের একক মর্যাদার কথা। এই মূল্যবোধ ইকবালের কবিকীর্তিক একক মর্যাদায় অভিসিক্ত করেছে।' ইকবালের নির্বাচিত কবিতা, মুহম্মদ মাহফুজ উল্লাহ লিখিত ভূমিকা, পৃ. ৯)
ইকবাল তার এই অবিস্মরণীয় মূল্যবোধ গ্রহণ করেছিলেন ইসলাম থেকে। ইসলামের সারসত্যকে ঋজু, চৈতন্য উদ্দীপক ও মর্মস্পর্শী আঙ্গিকে তিনি উপস্থাপন করেছিলেন। সেই উপস্থাপনা ছিলো যুগপথ শৈলী ও বক্তব্যে সমানভাবে ঐশ্বর্যমন্ডিত। কবিতার ঐশ্বর্য সন্ধানে আদর্শকে গৌণ করার নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন না আল্লামা ইকবাল। তিনি কবিতার প্রাণ হতে পারে, এজন্যে মানবকল্যাণের মহীয়ান আদর্শ তালাশ করেছেন। এ লক্ষ্যে হাত বাড়িয়েছিলেন পাশ্চাত্যের কাব্যদর্শনের দিকে। কিন্তু সেখানে খুঁজে পাননি কাম্য আদর্শ। ইকবালের ভাষায় সেই দর্শন- ‘নিজের ছোরায় নিজেই করিবে আত্মহত্যা/পলকাডালে যে বাসা বাধা হয়, সে হয় না চিরস্থায়ী'। ইকবাল সেখানে বাহারী চাকচিক্য ছাড়া মানবজীবনের কোনো মৌল আদর্শ খুঁজে পাননি। অতএব এর পিছনে সময়পাত করে ইকবালের আক্ষেপ- ‘ইউরোপের ঐ শরাবখানায় কাটিয়েছি দীর্ঘকাল/লাভ তো কিছু হয়নি তাতে শিরোপীড়া বাড়লো ছাড়া।'
পশ্চিমা জীবনদর্শন পঠন-পর্যবেক্ষণের পর ইকবাল আত্মনিয়োগ করেন ইসলামের অন্তঃসমীক্ষায়। সেখানে তিনি আবিষ্কার করলেন মানবিক কাব্যাদর্শের আবহায়াত। সেই আদর্শের প্রতি ইকবালের বিশ্বাস ছিলো দৃঢ়। এক্ষেত্রে কারো ভ্রুকুটিকে তোয়াক্কা করতে তিনি প্রস্তুত ছিলেন না। তার স্পষ্ট ঘোষণা, ‘ইউরোপ বিরক্ত হলে হোক শুনে ইসলামের নাম/সংকটে স্বনির্ভরতা এই সেই রূহের পয়গাম।' রূহের পয়গাম দ্বারা কবিতাকে কীভাবে সার্থক করে তুলতে হয়, ইকবাল তা দেখিয়েছেন কালোত্তীর্ণ সব কবিতার পটভূমিকায়। যারা কবিতাকে কোনো মৌলআদর্শের বুনিয়াদ থেকে বিচ্ছিন্ন ভাবেন, ইকবালের দৃষ্টিতে তাদের কবিতা হলো পুরোহিতের আত্মার মতো জীবনের অসুস্থতা। যারা বলেন, কবিতা কেবল শিল্পের কাছে দায়বদ্ধ, আদর্শের কাছে নয়, তাদের কবিতাকে ইকবাল কুষ্ঠরোগাক্রান্ত মাংস বলে অভিহিত করেন। আদর্শের প্রশ্নে ইকবাল ছিলেন অনড়। ফলে তার কবিতার শিল্পসুষমা পাঠককে শুধু তাৎক্ষণিক আবেগে উদ্দীপিত করে না, এবং মহান এক জীবনীশক্তির পয়গামে তাকে উজ্জীবিত করে। ইকবাল চান কবিতা যেন প্রেম-বিরহ ও হৃদয়ভঙ্গজনিত করুণ অস্থায়ী সংবেদনসমূহে আবদ্ধ না থাকে। কবিতার লক্ষ্য হবে এমন অসাধারণ শিল্পসৃষ্টি, যা হোক বিকীর্ণ হবে অনন্ত আলো ফোয়ারা, প্রবাহিত হবে সৌরভের এমন ঘর ঝরণাধারা, যার সংস্পর্শে আসা মাত্রই মনে হবে-
‘শিল্পীদের সৃষ্টিগুলো ফেরদৌসের সমতূল্য
উন্মুক্ত হলো অস্তিত্বের গোপন ভান্ডারের আবরণ'
কবিতা শিল্পসাফল্য পেলেই পুলকিত হন না, বরং স্বকীয় জীবনাদর্শের প্রবাহধারাকে জাতীয় জীবনে প্রত্যক্ষ না করা পর্যন্ত তার কবিতা বিলাপ করতে থাকে। ইকবাল বলেন,-‘মাঁয় বুলবুলে নালা হো এক উজড়ে গুলিস্তাঁ কা' শূন্য পুকাননের আমি এক বিলাপকারী বুলবুলি। কেন সেই বিলাপ? কারণ ইকবাল দেখেছেন মুসলমানদের ‘কলব মে সোজ নেহি, রূহ মে ইহসাস নেহি।' আত্মার মধ্যে আন্দোলিত প্রাণবান কোনো অনুভূতি নেই। দিলের মধ্যে নেই কোনো তীব্রদহন। এই প্রাণহীনদের মধ্যে ইকবাল খোঁজে পান না সত্যিকার মুসলমানের অবয়ব। তিনি বলেন, শোর হায় হো গায়ে দুনইয়া সে মুসলমাঁ না বুদ/হাম ইহ কাহতে হায় কে থে ভী কহী মুসলমাঁ মৌজুদ?' আওয়াজ উঠেছে ধ্বংস হয়ে গেছে মুসলমান। আমি বলি, পৃথিবীতে মুসলমান কোথায়? আত্মবিস্মৃত, পরানূকরণবাদী, নির্জীবদেরকে ইকবাল ইসলামের প্রতিনিধি ভারতে রাজি নন। তারা জীবনের কর্তব্য থেকে পলায়ন করে খোদার খেলাফতের যিম্মাকে অবজ্ঞা করেছে। ফলে খোদা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। কারণ, ‘খোদা-ই জিন্দাহ, জিন্দাহ কা খোদা হায়।' জীবিত খোদা জীবিতদেরই খোদা। এই সব জীবমৃতের জন্য ইকবালের প্রার্থনা-ইয়া রব। দিলে মুসলিম কো ওহ জিন্দাহ তামান্না দে/জে কালব কো গরমা দে, জো রোহ কো তড়পা দে/হে রব। মুসলমানদের অন্তরে তুমি জীবন্ত উদ্দীপনা জাগিয়ে দাও। যা কালবকে উত্তপ্ত করে, উজ্জীবিত করে নির্জীব আত্মাকে।
ইকবালের এই প্রার্থনা হলো- চৈতন্যময় আত্মার এক পরম আলোর দিকে তন্ময় ও নিরন্তর ঊর্ধ্বারোহণের সবাক চিত্র। যেখানে কবি আত্মার উদ্ভাসনে মুসলিম জাতিগোষ্ঠী মহামানবতার সূর্যের জ্বালানি হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বাসী। সেটা নিশ্চিত করবে ইসলাম। কারণ, ইসলাম নামক ‘আকাশের উপত্যকায় সূর্যদীপ্র কতো জ্যোতিস্রোতের বৈভব/বিচ্ছিন্ন সূর্যের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে এ যেনো ঘনিষ্ট কোলাকোলি/পশ্চিম জানি কখনো পাবে না সেই আলোকের ছটা/যন্ত্রোস্থিত ফিরিঙ্গির ধূম্রজটাজালে/সেখানে আকাশজুড়ে অন্ধকার শুধু আচ্ছন্নতা।' অন্ধকারের এই আচ্ছন্নতা কাটিয়ে উঠে মুসলমানদের আত্মশক্তিতে জেগে ওঠার আহবান তিনি শুনিয়েছেন-
তুমি এক তরবারি, নিজের খাপ থেকে বাইরে এসো
বাইরে এসো, বাইরে এসো, বাইরে এসো
সম্ভাবনাকে ঢেকে ফেলা সব পর্দা ফেলো ছিঁড়ে
চন্দ্রকে নাও, সূর্যকে ধরো, নক্ষত্রকে পুষো
ইকবাল বিশ্বাস করতেন তার বিস্ময়কর কাব্যমহিমায় মুসলিম চৈতন্যে গোলাপের শিখা জ্বলবে। বসন্তের ফুলের মতো তারা জেগে উঠবে। তিনি দেখতে পেয়েছিলেন চতুর্দিকে এই সম্ভাবনা। ইকবাল নিজেকে সম্বোধন করে বলেন, তোমার অগ্নিনিঃশ্বাসে গোলাপের শিখা জ্বলছে-
হে বাগানের পাখি,
এটাই হলো তোমার গানের পুরস্কার
আরেকটি কবিতায় তিনি বলেন-
আমি বসন্তের সুরেলা নকীব
আমার মনের চারধারে প্রেমের শিখা জ্বলছে
আজ আমি একা বলে উপেক্ষা করো না
পেছনে আমার ফুলের কাফেলা আসছে।
মানবিকতার নিশানবরদার হিসেবে ইসলামের অনুসারীদের সম্বোধন করে কথা বললেও ইকবালের লক্ষ্য ছিলো সব মানুষের কল্যাণও বিশ্বজনীন শুভেচ্ছা। তার এই আদর্শবাদিতার ছিলো না কোনো সাম্প্রদায়িকতার বার্তাবাহী। মানবতার এক মহান কবিগুরু। সর্বত্রই বরেণ্য তিনি, কী প্রাচ্যে, কী পাশ্চাত্যে। মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের ফেডারেল আদালতের বিচারপতি উইলিয়াম ডগলাস ইকবালের সমাধি দর্শনের অভিজ্ঞতাকে তীর্থযাত্রা বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে- ‘ইকবাল ছিলেন সব জাতির, তার ভাবনার বিশ্বজনীন আবেদন রয়েছে। তিনি সব দেশের, সব ভাষার মানুষের শুভেচ্ছার মানসিকতাকে লক্ষ্য করে কথা বলেছেন। তিনি মানুষের নিত্য- নৈমিত্তিক জীবনাচার থেকে নিয়ে মানুষের স্রষ্টা মানুষের বিশ্বজগতসহ অনেক কিছুর গান গেয়েছেন। তার সুরে রয়েছে দার্শনিকতার অনবদ্য ঝংকার। নতুন পর্থে ভবিষ্যতের পৃথিবী গড়ে তোলার জন্য তার ছিলো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব।